ভাব ও কাজ

 

ভাব ও কাজ প্রবন্ধের সৃজনশীল





অনুশীলনী

বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

১। ভাব ও কাজ’ লেখাটি কোন ধরনের সাহিত্য?

. ছোটগল্প        . প্রবন্ধ      . কাহিনি কাব্য        . উপন্যাস

২। “সে ভাবাবেশ কর্পূরের মতো উরিয়া যায় ”- বাক্যটির ‘কর্পূর' শব্দের অর্থ নিচের কোনটি?

. কপালের রেখা . এক ধরনের পাখি বিশেষ    .বাতাসের সংস্পর্শে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এমন বস্তু

    . বাতাসের সংস্পর্শে অল্পক্ষণের মধ্যে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এমন বস্তু

৩। ‘ভাবের সুরা পান করো ভাই, কিন্তু জ্ঞান হারাইওনা।'জ্ঞান হারালে-
    i. দেশের পতন হবে    ii. নিজের পতন হবে    iii. মনুষ্যত্বের পতন হবে

    নিচের কোনটি সঠিক?

    . i ii    . i iii       . ii iii      . i, ii iii

উদ্দীপকটি পড় এবং ৪ ও ৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:

জুয়েল ৮ম শ্রেণিতে পড়ে। সে ক্লাসে সসসময় চুপচাপ থাকে। দেখলে মনে হয় কী যেন চিন্তা করছে। ক্লাসের পড়াও ঠিকমত শেখে না। কিন্তু তার স্বপ্ন এস এস সি পরীক্ষার পর একটি ভালো কলেজে ভর্তি হবে।

৪. ‘ভাব ও কাজ' প্রবন্ধ অনুযায়ী জুয়েলের আচরণ হচ্ছে-

    ক) পুষ্পহীন সৌরভ   খ. সৌরহীন পুষ্প    গ. বদ খেয়া   ঘ. লা-পরওয়া

৫। ‘ভাব ও কাজ' প্রবন্ধ অনুযায়ী জুয়েলের উচিত-
    i. ভাব ও কাজের সমন্বয় করা ii. ভাবের উচ্ছ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করা
     iii. বাস্তবধর্মী কাজে তৎপর হওয়া

    নিচের কোনটি সঠিক?

ক) i ii    খ) i iii       গ) ii iii      ঘ) i, ii iii


অতিরিক্ত বহুনির্বাচনী প্রশ্ন:
১। ‘বানভাসি’ শব্দের বাচ্যার্থ কী?
ক) উত্তেজনা             খ) আন্দোলন     গ) সাময়িক গুজব         ঘ) বন্যায় ভাসানো
২। আমাদের দেশটা কেমন?
ক) শস্য শ্যামলা         খ) নদীমাতৃক         গ) মুণী-ঋষী বেষ্টিত    ঘ) ভাব-পাগলা
৩। ‘দাদ’ শব্দের অর্থ কী?
ক) বিভোর                 খ) নিষ্ফল                 গ) প্রতিশোধ             ঘ) প্রতিজ্ঞা
৪। কোনটি বস্তুজগতের বিষয়?
ক) ভাব     খ) সাহস     গ) উচ্ছ্বাস     ঘ) কাজ
৫। ‘স্পিরিট’ শব্দের অর্থ কী?
i) আত্মার শক্তি ii) উদ্দীপনা, উৎসাহ iii) বৃহত্তর কল্যাণ সাধন
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) ii খ) ii ও iii গ) i ও ii ঘ) i, ii ও iii
৬। কুম্ভকর্ণ কে ?
ক) রাবণের পিতা খ) ইন্দ্রজিতের বাবা গ) রামের ছোট ভাই ঘ) রাবণের ছোট ভাই
৭। দেশের প্রাণশক্তি কী?
ক) ত্যাগী যারা খ) রাষ্ট্রনায়করা গ) তরুণসমাজ ঘ) দেশপ্রেমিক কর্মী
৮। আজ যাহারা মুখে চাদর জড়াইয়া- এখানে কাদের কথা বলা হয়েছে?
ক) যুবসমাজ খ) স্কুল-কলেজের ছাত্রদল গ) তরুণসামজ ঘ) নিঃস্বার্থ-ত্যাগীর দল
৯।‘ভাব ও কাজ’প্রবন্ধে ‘বেচারা’ বলা হয়েছে কাদের?
ক) মহাপুরুষদের খ) স্কুল-কলেজের ছাত্রদল গ) ত্যাগী মহাপুরুষদের ঘ) সত্যিকার দেশকর্মী
১০। সহজ জনসাধারণ কোনটি ধরতে পারে না?
ক) সত্যিকার দেশকর্মীদের কর্মকাণ্ড                     খ) তরুণসমাজের চিন্তাচেতনা
গ) মুখোশ-পরা ত্যাগী মহাপুরুষদের হঠকারিতা     ঘ) বাঁশীঁ বাদকদের বাঁশীর সুর
১১। ভাব ও কাজের তফাৎ কেমন?
ক) রাত-দিন                খ) প্রাণ-নিষ্প্রাণ         গ) যোগ-বিয়োগ         ঘ) আসমান-জমিন

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
ইফরান বিসিএস পাস করে গেজেটেড কর্মকর্তা হয়। সে তার অফিসের কোনো ফাইল অতিরিক্ত টাকা ছাড়া স্বাক্ষর করে না। এভাবে সে অনেক টাকার মালিক হয় অল্প দিনেই। একসময় দুদক অনুসন্ধানে এলে সে তার চাকরি হারায়। তখন সে অনুতপ্ত হয়।
১২। উদ্দীপকের ইফরানের ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য?
ক) ভাবের দাসে পরিণত হইয়াছে                                     খ) ভাব ও কাজের সমন্বয় করে নাই
গ) জাগিয়া ঘুমাইয়াছে                                                     ঘ) কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভাঙিয়াছে
১৩। ইফরানের জন্য লেখকের পরামর্শ হতে পারে-
ক) স্পিরিট বা আত্মার শক্তিকে জাগাইয়ে তোল        খ) নিজের বুদ্ধি ও কর্মশক্তিকে জাগাইয়ে তোল
গ) ভাবের সুরা পান করো, কিন্তু জ্ঞান হারাইও নো
ঘ) ভাবের দাস হইও না, ভাবকে তোমার দাসি করিয়া লও
১৪. ছাত্ররা কাকে মুখ ভ্যাঙচালো?
(ক) জনতাকে     (খ) বিশ্ববিদ্যালয়কে     (গ) শত্রুপক্ষকে         (ঘ) স্পিরিটকে
১৫. লেখক কাকে নিজের দাস করে নিতে বলেছেন?
(ক) কাজকে     (খ) ভাবকে     (গ) জ্ঞানকে     (ঘ) শক্তিকে
১৬. কর্মে শক্তি আনার জন্য কী করতে হবে?
(ক) সত্য-সাধনা         (খ) জ্ঞান-সাধনা        (গ) কর্ম-সাধনা         (ঘ) ভাব-সাধনা
১৭. লেখক কোথায় চুরি করতে নিষেধ করেছেন?
(ক) কর্মের ঘরে     (খ) জ্ঞানের ঘরে    (গ) ভাবের ঘরে     (ঘ) চিন্তার ঘরে
১৮. লেখকের মতানুযায়ী কোনটি পাপ?
(ক) তথাকথিত কর্মী হওয়া         (খ) ত্যাগী দেশপ্রেমী হওয়া
(গ) আত্মার শক্তিকে নষ্ট করা        (ঘ) আন্দোলন থেকে পিছু হটে যাওয়া
১৯. ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের মূলকথা কী?
(ক) ভাবের স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়া
(খ) ভাবে উদ্বেল হওয়ার পাশাপাশি কর্মে নিয়োজিত হওয়া
(গ) বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা
(ঘ) পরিকল্পিত কর্মশক্তি সম্পর্কে সচেতন পদক্ষেপ নেয়া
২০. ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধ পাঠে শিক্ষার্থীরা কোন ধরনের কাজে অনুপ্রাণিত হবে?
(ক) কঠিন কাজে     (খ) সহজ কাজে        (গ) মহৎ কাজে     (ঘ) ছোট কাজে
২১। ‘ভাব ও কাজ’ লেখাটি কোন ধরনের সাহিত্য?
ক) ছোটগল্প খ) প্রবন্ধ গ) কাহিনি কাব্য ঘ) উপন্যাস
২২। লেখকের মতে ‘ভাব’ কী?
ক) বাস্তব উল্লাস খ) অবাস্তব উচ্ছ্বাস গ) বাস্তব আকাঙ্ক্ষা ঘ) অবাস্তব আকাঙ্ক্ষা
২৩। নজরুল ভাবকে কিসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
ক) পুষ্পবিহীন সৌরভ খ) সৌরভবিহীন পুষ্প
গ) পত্রশূন্য-বৃক্ষ ঘ) বৃক্ষচ্যুত পত্র
২৪। কুম্ভকর্ণের ঘুম কিভাবে ভাঙানো হতো?
ক) মন্দিরা-বাঁশি বাজিয়ে খ) ঢোল-কাঁসি বাজিয়ে গ) নূপুর-চুড়ি বাজিয়ে ঘ) শঙ্খ-সানাই বাজিয়ে
২৫। যারা অগ্র-পশ্চাৎ বিবেচনা ছাড়াই কাজ করে ‘ভাব ও কাজ’ রচনায় তাদের কিসের সঙ্গে তুলনা
করা হয়েছে?
ক) কুম্ভকর্ণ খ) উদমো ষাঁড় গ) সৌরভবিহীন পুষ্প ঘ) ত্যাগী ঋষি
২৬। ভাবের দাস হলে আমাদের কোনটি অবশ্যম্ভাবী?
ক) উন্নতি খ) উত্থান গ) অমর্যাদা ঘ) পতন
২৭। লোক প্রবাদ অনুযায়ী কত চক্রে ভগবান ভূত?
ক) পাঁচ চক্রে খ) দশ চক্রে গ) শত চক্রে ঘ) হাজার চক্রে
২৮। লেখকের মতে সাপ নিয়ে খেলা করতে গেলে দস্তুর মতো কী হওয়া চাই?
ক) বাঁশিবাদক খ) সাপুড়ে গ) ওঝা ঘ) বলবান
২৯। কাজী নজরুল ভাবের ঘরে কী করতে নিষেধ করেছেন?
ক) চুক্তি করতে খ) ঘা দিতে গ) উঁকি দিতে ঘ) ঢু মারতে
৩০। ভাবের সার্থকতা কিসে?
ক) কল্পনা জগতে অবস্থান করায় খ) নতুন ভাব উত্পন্ন করায়
গ) কাজে পরিণত হওয়ায় ঘ) কাজে বাধা সৃষ্টি করায়
৩১। মানুষের উত্সাহ স্বল্প স্থায়ী—এই সত্য আমরা কিভাবে শিখেছি?
ক) ঠকে শিখেছি খ) ঠেকে শিখেছি গ) জিতে শিখেছি ঘ) পড়ে শিখেছি
৩২। ভাব দিয়ে মানুষকে মাতিয়ে তুলে কখন কাজ আদায় করে নিতে হবে?
ক) ধীরে-সুস্থে খ) অনেক দেরিতে গ) যখন ইচ্ছে হবে ঘ) যত দ্রুত সম্ভব
৩৩। জনগণের মাঝে কোনো বিষয়ে অনুপ্রেরণা সৃষ্টির ক্ষেত্রে কোনটি উদ্দেশ্য হিসেবে থাকা উচিত?
ক) ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি খ) মানব কল্যাণ গ) ভাব জগতের উন্নয়ন ঘ) দ্রুততম সময়ে কার্যসিদ্ধি
৩৪। ‘ভাব ও কাজ’ রচনা অনুযায়ী জীবনকে গড়ে তোলার জন্য কী করতে হবে?
ক) কল্পনা বিলাসী হতে হবে খ) মানসিক শক্তিকে সঠিক পথে চালিত করতে হবে
গ) ভাব জগেক প্রাধান্য দিতে হবে ঘ) চোখ বন্ধ করে কাজে নামতে হবে
৩৫। যিনি মানুষের মাঝে চেতনা জাগিয়ে তুলতে ব্রতী হবেন, তাঁকে হতে হবে—
i) সত্সাহসী ii) স্বার্থত্যাগী iii) মহত্প্রাণ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i, ii খ) i, iii গ) ii, iii ঘ) i, ii ও iii
৩৬। হাজার খানেক স্কুল-কলেজের ছাত্র বের হয়ে এসেছিল—
i) আত্মত্যাগের উন্মাদনায় ii) সাময়িক উত্তেজনায় iii) হুজুগে মেতে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i, ii খ) i, iii গ) ii, iii ঘ) i, ii ও iii
৩৭। সাময়িক ভাবাবেগের বশে পরিণতি বিচার না করে কাজ করলে—
i) আত্মার শক্তির অপমান হয় ii) আত্মার শক্তি জাগ্রত হয় iii) আত্মার শক্তির পবিত্রতা নষ্ট হয়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i, ii খ) i, iii
গ) ii, iii ঘ) i, ii ও iii
৩৮। ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধ অনুসারে পাপ হয়—
i) স্পিরিটকে অন্যের প্ররোচনায় নষ্ট করলে
ii) লোকের কোমল অনুভূতিতে ঘা দিলে
iii) ভাবের নিন্দা করলে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক) i, ii খ) i, iii গ) ii, iii ঘ) i, ii ও iii
৩৯। ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কিসে তত্পর হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন?
ক) বাস্তবধর্মী কর্মে খ) আধ্যাত্মিক কর্মে গ) ভাববাদী কর্মে ঘ) অবাস্তব কর্মে
৪০। ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের লেখক কে?
ক) কাজী নজরুল ইসলাম খ) মুস্তাফা মনোয়ার     গ) বিপ্রদাশ বড়ুয়া ঘ) কামরুল হাসান
উত্তর :
১. ঘ, ২. ঘ, ৩. গ, ৪. ঘ, ৫. গ, ৬.ঘ, ৭. গ, ৮. খ, ৯. ঘ, ১০. গ, ১১. ঘ, ১২. ঘ, ১৩. গ। ১৪: (ঘ) স্পিরিটকে। ১৫। (গ) জ্ঞানকে। ১৬: (ঘ) ভাব-সাধনা। ১৭ : গ. ভাবের ঘরে। ১৮: (গ) আত্মার শক্তিকে নষ্ট করা।
১৯ : (খ) ভাবে উদ্বেল হওয়ার পাশাপাশি কর্মে নিয়োজিত হওয়া। ২০ : (গ) মহৎ কাজে। ২১. খ ২২. খ ২৩. ক ২৪. খ ২৫. খ ২৬. ঘ ২৭. খ ২৮. খ ২৯. ক ৩০. গ ৩১. খ ৩২. ঘ ৩৩. খ ৩৪. খ ৩৫. ঘ ৩৬. গ ৩৭. খ ৩৮. ক ৩৯. ক ৪০. ক।

অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : তুমি স্বপ্নে রাজা হতে পার, কোটি কোটি টাকা, বাড়ি-গাড়ির মালিক হতে পার। কল্পলোকের সুন্দর গল্পও হতে পার, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন এক জগৎ। এখানে বড় হতে হলে পরিশ্রমের বিকল্প নেই। শিক্ষার দ্বারা নিজের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করে সঠিক কর্মানুশীলনের মাধ্যমে বড় হতে হবে। সুতরাং কল্পনার জগতে হাবু-ডুবু না খেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক।

ক. যিনি ভাবের বাঁশি বাজিয়ে জনসাধারণকে নাচাবেন তাকে কেমন হতে হবে?

খ. লেখক ‘স্পিরিট’ বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছেন কেন?

গ. উদ্দীপকটি ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের যে দিকটি নির্দেশ করে তা বর্ণনা কর।

ঘ. ‘কল্পনার জগতে হাবু-ডুবু না খেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক’  – মন্তব্যটি ভাব ও কাজ প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন কর।

১ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. যিনি ভাবের বাঁশি বাজিয়ে জনসাধারণকে নাচাবেন তাকে নিঃস্বার্থ ত্যাগী ঋষি হতে হবে।

খ. কর্মে শক্তি আনার জন্য লেখক স্পিরিট বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছেন।
মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ভাবের গুরুত্ব অপরিসীম কিন্তু শুধু ভাব দিয়ে মহৎ কিছু অর্জন করা যায় না। তার জন্য কর্মশক্তি এবং সঠিক উদ্যোগের প্রয়োজন হয়। কারণ সত্যিকার দেশকর্মী নিজের বুদ্ধি, কর্মশক্তি ও শ্রমশক্তি দিয়ে দেশকে জাগিয়ে তুলতে পারে। প্রবন্ধকার মনে করেন, কর্মে শক্তি আনার জন্য ভাব সাধনা করে ভাবকে নিজের বশে রেখে আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। তাহলেই দেশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

গ. উদ্দীপকটি ভাব ও কাজ প্রবন্ধের কর্মশক্তি জাগরণের দিকটি নির্দেশ করে।
প্রবন্ধকার কাজী নজরুল ইসলাম দেশের মঙ্গলের জন্য জাতিকে কর্মী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ভাব ও কাজের পার্থক্য অনেক। ভাব হচ্ছে পুষ্পহীন সৌরভ যা অবাস্তব উচ্ছ্বাসমাত্র। কাজ জিনিসটা ভাবকে রূপ দেয় যা সম্পূর্ণ বস্তুগত। মানুষকে কাজে লাগাতে তার কোমল জায়গায় স্পর্শ করে ভাব জাগিয়ে তাকে মাতিয়ে তোলা প্রয়োজন । কেননা কেবল ভাব অর্থহীন। নিঃস্বার্থ ত্যাগের দৃষ্টি নিয়ে অন্যের ভাব জাগিয়ে তাকে মানুষের কল্যাণকর্মে পরিণত করতে হবে। তাহলেই দেশের কল্যাণ করা সম্ভব হবে।
উদ্দীপকে সঠিক কর্মানুশীলনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ কল্পনার জগতে নিজেকে অনেক কিছুই ভাবতে পারে কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাস্তবমুখী চিন্তা-চেতনাকে কর্মে রূপ না দিলে তার কোনো সার্থকতা থাকে না। কল্পনার জগতে বিচরণ না করে কর্মশক্তি এবং সঠিক উদ্যোগ একান্ত প্রয়োজন। দেশ ও জাতির উন্নতির জন্য ভাবের সঙ্গে বাস্তবধর্মী কর্মে তৎপর হতে হবে, তাহলেই জীবন সার্থক হবে। ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে লেখক কর্মশক্তি অর্জনের তাগিদ দিয়েছেন। উদ্দীপকেও কর্মশক্তি জাগরণের দিকটি ফুটে উঠেছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের কর্মশক্তি আগরণের দিকটি নির্দেশ করে।

ঘ. ‘কল্পনার জগতে হাবুডুবু না খেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই মনুষ্যত্ব’- ভাব ও কাজ প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি যথার্থ।
কাজী নজরুল ইসলাম ভাব ও কাজ প্রবন্ধে ভাব ও কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে নির্দিষ্ট পরিকল্পনামতো কাজে মনোনিবেশ করার কথা ব্যক্ত করেছেন। কেননা, শুধু ভাবকল্পনা ব্যক্তিজীবনে অর্থবহ হয় না। ভাবকে কাজের দাসে পরিণত করতে না পারলে ভাব অর্থহীন। ভাবকে নিজের বশে রেখে কর্মশক্তিতে উজ্জীবিত হলেই দেশের কল্যাণ সম্ভব হবে। সঠিক কর্মানুশীলনের মাধ্যমেই সার্থক মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।
উদ্দীপকে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে কল্পনার রাজ্যে বিচরণ না করে সঠিক কর্মানুশীলনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কল্পনায় মানুষ নিজেকে অনেক বড় জায়গায় দেখতে পারে কিন্তু সে অনুযায়ী যদি কর্ম সম্পাদন করা না হয় তাহলে কল্পনা কখনো বাস্তবরূপ নিবে না। এজন্য কর্মশক্তি ও সঠিক উদ্যোগের দরকার হয়। ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য জাতিকে কর্মী হতে পরামর্শ দিয়েছেন। উদ্দীপকেও একই কথা ধ্বনিত হয়েছে।
ভাব ও কাজ প্রবন্ধে ভাব ও কাজের সম্পর্ক আলোকপাত করে কর্মে তৎপর হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে উদ্দীপকেও সত্যিকারের মানুষ হতে কল্পনার রাজ্য ত্যাগ করে বাস্তবধর্মী সঠিক কর্মানুশীলনের কথা বলা হয়েছে। কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করে মনুষ্যত্ব অর্জন সম্ভব নয়। সুতরাং এ কথা বলা যায়, কল্পনার জগতে হাবুডুবু না খেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করাই মনুষ্যত্ব- ভাব ও কাজ প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি যথার্থ।

Post a Comment

Previous Post Next Post