অষ্টম শ্রেণি
বাংলা ১ম পত্র
অতিথির স্মৃতি
অনুশীলনী
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :
১. বাত ব্যাধিগ্রস্থ রোগীরা কখন ঘরে প্রবেশ করে ?
ক. সন্ধ্যার পূর্বে খ. সন্ধ্যার পরে
গ. বিকেল বেলা ঘ. গোধূলি বেলা
২. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ডি.লিট উপাধি পেয়েছেন কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ?
ক. ঢাকা খ. কলকাতা
গ. অক্সফোর্ড ঘ. কেমব্রিজ
৩. আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
i. কোনো তিথি না মেনে কারোর আগমনকে
ii. মাত্রাতিরিক্ত সময় আতিথেয়তা গ্রহণ করাকে
iii. অবাঞ্ছিতভাবে কোনো অতিথির অধিক সময় অবস্থানকে
নিচের কোনটি সঠিক ?
ক. i খ. i ও ii
গ. iii ঘ. i, ii ও iii
উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
বাবা-মার আদরের দুই ছেলে রাহি ও মাহি এবার ক্লাস টুতে পড়ে। ওদের বাবা একদিন ছোট্ট একটি খাঁচায় একটি ময়না পাখি কিনে ওদের উপহার দেয়। সেই থেকে সারাক্ষণ দুই ভাই প্রতিযোগিতা করে পাখিটিকে খাবার দেওয়া, পানি দেওয়া, কথা বলা আর কথা শেখানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু একদিন সকালে দেখে- ইঁদুর এসে রাতে পাখিটাকে মেরে ফেলেছে। সেই থেকে যে তাদের অঝোর ধারায় কান্না, কেউ আর থামাতেই পারে না। আজও সেই ময়নার কথা মনে হলেও ওরা কেঁদে ওঠে।
৪. উদ্দীপকে ‘অতিথির স্মৃতি’- গল্পের যে ভাব প্রকাশ পেয়েছে তা হলো
i. পশু-পাখির সাথে মানুষের স্বাভাবিক সম্পর্কii. পশু-পাখির সাথে মানুষের স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক
(৫) নিচের কোনটি সঠিক ?
ক. i ও ii খ. i ও iii
গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iii
৫. উক্ত সাদৃশ্যপূর্ণ ভাবটি নিচের কোন চরণে প্রকাশ পেয়েছে ?
ক. বাড়ি ফিরে যাবার আগ্রহ মনের মধ্যে কোথাও খুঁজে পেলাম না।
খ. আতিথ্যের মর্যাদা লঙ্ঘন করে সে আরামে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছে।
গ. অতএব আমার অতিথি করে উপবাস।
ঘ. তা, হোক, ওকে তোমরা খেতে দিও।
সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন ১- দরিদ্র বর্গাচাষি গফুরের অতি আদরের একমাত্র ষাঁড় মহেশ । কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে ওকে ঠিকমতো খড়-বিচুলি খেতে দিতে পারে না। জমিদারের কাছে সামান্য খড় ধার চেয়েও পায় না। নিজে না খেয়ে থাকলেও গফুরের দুঃখ নেই। কিন্তু মহেশকে খাবার দিতে না পেরে তার বুক ফেটে যায় । সে মহেশের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে— মহেশ, তুই আমার ছেলে। তুই আমাদের আট সন প্রতিপালন করে বুড়ো হয়েছিস । তোকে আমি পেট পুরে খেতে দিতে পারি নে, কিন্তু তুই তো জানিস আমি তোকে কত ভালোবাসি । মহেশ প্রত্যুত্তরে গলা বাড়িয়ে আরামে চোখ বুজে থাকে।
ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ কী?
খ. অতিথি কিছুতে ভিতরে ঢোকার ভরসা পেল না কেন? ব্যাখ্যা করো ।
গ. উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের যে দিকটি প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো ।
ঘ. উদ্দীপকের গফুরের সাথে লেখকের চেতনাগত মিল থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন’– ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো ।
১ নং প্রশ্নের উত্তরঃ
ক উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেওঘরে যাওয়ার কারণ বায়ু পরিবর্তন ।
খ উত্তরঃ অচেনা পরিবেশে ভয় ও সংকোচ থেকে অতিথি ভেতরে ঢোকার ভরসা পেল না । ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখক চিকিৎসকের পরামর্শে কিছুদিনের জন্য দেওঘরে গিয়েছিলেন। সেখানে পথ চলতে গিয়ে একটি কুকুরের সঙ্গে লেখকের সখ্য গড়ে ওঠে। লেখক তাকে অতিথি সম্বোধন করে বাড়ির ভেতরে ডাকলে কুকুরটি ভেতরে ঢুকতে সাহস পায় না। মূলত, অচেনা পরিবেশে ভয় ও সংকোচ থেকেই অতিথি ভেতরে ঢোকার সাহস পায় না ।
গ উত্তরঃ উদ্দীপকে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে প্রকাশিত অবলা প্রাণীর প্রতি লেখকের অকৃত্রিম ভালোবাসার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে ।মানুষ কখনো কখনো ইতর প্রাণীর সঙ্গেও স্নেহ-প্রীতির সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে । নানা বাধার মুখেও সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চায়। মানবমনের এই অনুভূতির প্রকাশ দেখা যায় ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের কুকুরটির প্রতি লেখকের আচরণে ।
উদ্দীপকের বর্ণনায় প্রিয় ষাঁড় মহেশের প্রতি গফুরের অকৃত্রিম ভালোবাসার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের গফুর ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের মতোই তার পোষা প্রাণীটির প্রতি গভীর মমতা প্রকাশ করেছে । আদরের ষাঁড় মহেশকে সে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসে। মহেশের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কারণ, প্রিয় প্রাণীটিকে গফুর পেট পুরে খেতেও দিতে পারে না, যা তাকে সবসময় কষ্ট দেয়।
একইভাবে, আলোচ্য গল্পের কথকও একটি পথের কুকুরের সঙ্গে মমত্বের সম্পর্কে আবদ্ধ হন । সে বিবেচনায় উদ্দীপকটিতে মহেশের প্রতি গফুরের আচরণে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে ফুটে ওঠা প্রাণীর প্রতি মমত্ববোধের দিকটিই প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ উত্তরঃ প্রাণীর প্রতি গভীর মমতা প্রকাশের দিক দিয়ে ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের সঙ্গে গফুরের চেতনাগত সাদৃশ্য থাকলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন ।করে নেন অতিথির মর্যাদায় । অবলা প্রাণীর প্রতি লেখকের এই মমত্ববোধের দিকটি আলোচ্য গল্পের মূল বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। উদ্দীপকের দরিদ্র বর্গাচাষি গফুর ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের মতো তার পোষা প্রাণীটির প্রতি গভীর মমতা অনুভব করে। আট বছর ধরে যে ষাঁড়টি তাকে প্রতিপালন করে বুড়ো হয়েছে। তাকে ঠিকমতো খেতে দিতে না পারার দুঃখে জল আসে তার চোখে ।
শুধু মানুষে মানুষে নয়, অন্য জীবের সঙ্গেও মানুষের স্নেহ-প্রীতির সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। পরিবেশ ও ঘটনা আলাদা হলেও এ সম্পর্কের মূলে রয়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসার টান। এদিক বিচারে গল্পের লেখক ও উদ্দীপকের কৃষকের চেতনাগত মিল স্পষ্ট। তবে তাদের এমন আচরণের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা। এ ক্ষেত্রে অপরিচিত পরিবেশে একটি কুকুরের প্রতি লেখকের সাময়িক ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে, উদ্দীপকের চাষি গফুরের প্রিয় পোষা ষাঁড়টির প্রতি ভালোবাসা, মমতার শিকড় অনেক গভীর। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ।
প্রশ্ন ২- লালমনিরহাটের যুবায়ের প্রায় ১০ বছর ধরে তার পোষা হাতি কালাপাহাড়কে দিয়ে লাকড়ি টানা, চাষ করা, সার্কাস দেখানো ইত্যাদি কাজ করে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে দারিদ্র্যের কারণে হাতির খোরাক জোগাড় করতে না পেরে একদিন সে কালাপাহাড়কে বিক্রি করে দিল। ক্রেতা কালাপাহাড়কে নিতে এসে ওর পায়ে বাঁধা রশি ধরে হাজারো টানাটানি করে একচুলও নড়াতে পারল না। কালাপাহাড়ের দুচোখ বেয়ে শুধু টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। পরদিন খদ্দের আরও বেশি লোকজন সাথে করে এসে কালাপাহাড়কে নিয়ে যাবে বলে চলে যায়। কিন্তু ভোরবেলা যুবায়ের দেখে— কালাপাহাড় মরে পড়ে আছে। হাউমাউ করে সে চিৎকার করে আর বলে— ‘ওরে আমার কালাপাহাড়, অভিমান করে তুই চলে গেলি!’
ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোন পদক লাভ করেন?
খ. লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে দিন দুই দেরি করলেন কেন? ব্যাখ্যা করো ।
গ. কালাপাহাড়ের আচরণ ও ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের অতিথির আচরণ কীভাবে ভিন্ন? বর্ণনা করো ।
ঘ. “উদ্দীপকের যুবায়ের এর অনুভূতি আর ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখকের অনুভূতি একই ধারায় উৎসারিত”— মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো ।
২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর
ক উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।
খ উত্তরঃ অতিথির প্রতি মমতার টান কাটাতে না পেরে লেখক দেওঘর থেকে বিদায় নিতে দিন-দুই দেরি করেন । চিকিৎসকের পরামর্শে বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে গিয়ে লেখক একটি কুকুরকে সঙ্গী হিসেবে পান। ধীরে ধীরে কুকুরটির সঙ্গে তাঁর মমত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়। এ কারণে চলে আসার সময় হলেও লেখক কুকুরটিকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভেবে ব্যথিত হন। এজন্যই দেওঘর থেকে বিদায় নিতে নানা অজুহাতে লেখক দিন দুই দেরি করেন ।
গ উত্তরঃ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে কালাপাহাড় ও গল্পের অতিথির মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও আচরণগত দিক দিয়ে তাদের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ করা যায় । ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে একটি পথের কুকুরের সঙ্গে লেখকের স্নেহ-মমত্বের ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে লেখক দেওঘরে গিয়ে একটি কুকুরের সঙ্গ লাভ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কুকুরটির প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে লেখক তাকে বরণ | করেন। তিনি কুকুরটিকে স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে কাছে টেনে নেন।
কুকুরটিও তাঁর ভালোবাসা পেয়ে বশ্যতা স্বীকার করে। বাড়িতে এসে তাঁর খোঁজ করা, পথের ধারে তাঁর জন্য অপেক্ষা করা কুকুরটির নিত্যদিনের কাজে পরিণত হয়। লেখকের বিদায় নেওয়ার সময়ও অতিথি স্টেশন পর্যন্ত চলে আসে।
ঘ উত্তরঃ উদ্দীপকের যুবায়েরের সঙ্গে তার পোষা প্রাণী কালাপাহাড়ের সম্পর্ক প্রায় দশ বছরের। সংগত কারণেই তাদের মধ্যকার সম্পর্কে গভীরতা আরও বেশি। এরই প্রকাশ লক্ষ করা যায় কালাপাহাড়ের মধ্যে। এ কারণে কালাপাহাড়কে বিক্রি করে দিলে সে খুব কষ্ট পায় এবং তার বহিঃপ্রকাশও ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের অতিথি কষ্ট পেলেও সে তেমন কিছুই করতে পারেনি। কিন্তু কালাপাহাড় ভীষণভাবে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে।
সে কোনোভাবেই বাড়ি ছাড়তে চায়নি। অবশেষে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সে চূড়ান্ত ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছে, যা অতিথির আচরণের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। অর্থাৎ ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের অতিথি ও উদ্দীপকের কালাপাহাড় তাদের মনিবের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে। কিন্তু তাদের ভালোবাসা প্রকাশের ধরন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম ।
Post a Comment